বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬

আজ পবিত্র আশুরা,কারবালার রক্তাক্ত ঘটনা চির জাগ্রত

spot_img

ভিডিও

- Advertisement -

আজ পবিত্র আশুরা। হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ মুসলিম বিশ্বে পরিচিত ত্যাগ, শোক ও শিক্ষা গ্রহণের দিন হিসেবে। ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদতের দিনটি আজও মুসলমানদের হৃদয়ে এক অনন্ত বেদনার স্মারক। বাংলাদেশের মুসলমানরাও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে দিনটি পালন করছেন।



আশুরা শব্দের অর্থ দশম। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এই দিনটি শুধু কারবালার ঘটনা নয়—সৃষ্টির শুরু থেকে নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার দিন হিসেবেও বিবেচিত। ইসলামি বিশ্বাস
অনুযায়ী, এই দিনেই হজরত মুসা (আ.) ফেরাউনের জুলুম থেকে বাঁচেন, হজরত নূহ (আ.)-এর নৌকা থামে জুদি পাহাড়ে, হজরত আদম (আ.)-এর তাওবা কবুল হয়।

তবে সবশেষ ও সবচেয়ে গভীর প্রভাব তৈরি করে ৬১ হিজরিতে সংঘটিত কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা, যেখানে ইয়াজিদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পতাকা উঁচু করে জীবন দেন ইমাম হোসাইন (রা.)। তিনি বলেন, “মরণ অনিবার্য হলে, তবে তা হওয়া উচিত মর্যাদাপূর্ণ।” তাঁর এ আত্মোৎসর্গ আশুরাকে শোকের চেয়ে প্রতিবাদের চেতনায় পরিণত করেছে।



হাদিস শরিফে আশুরার রোজার ফজিলত বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার দিন এবং আগের বা পরের দিন রোজা পালনের পরামর্শ দিয়েছেন। এতে বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আজ দেশের মুসলমানরা এ উপলক্ষে নামাজ, রোজা ও বিভিন্ন নফল ইবাদতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শিয়া সম্প্রদায় আয়োজন করছে তাজিয়া মিছিল, যা স্মরণ করায় কারবালার শোক। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ‘পবিত্র আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করবেন আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদেরা।



আশুরা উপলক্ষে আজ রোববার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে আশুরার ত্যাগের শিক্ষা অন্তরে ধারণ করে সমাজে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।



ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আশুরা উপলক্ষে জারি করেছে কঠোর নির্দেশনা। তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বল্লম, তরবারি, লাঠি বহন ও আতশবাজি-পাতাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডিএমপির মতে, এসব ব্যবহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বিঘ্নিত ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।



চলতি বছর আশুরা উদ্‌যাপন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে ইরানে। ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে এবারকার আশুরা শোক থেকে প্রতিরোধে রূপ নিয়েছে। শহীদ সেনা, বিজ্ঞানী, নারী-শিশুদের ছবি নিয়ে আশুরার শোকানুষ্ঠান হয়ে উঠেছে জাতীয় ঐক্য ও প্রতিবাদের প্রতীক। শরীর রক্তাক্ত নয়, বরং রক্তদানের আহ্বানে আশুরা উদ্‌যাপন করেছে ইরানিরা।

- Advertisement -
spot_img

আলোচিত

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

ভিডিও