শুধু শোকের আবহ নয়, এবারের আশুরা ইরানে পরিণত হয়েছে ঐক্য, প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের এক প্রতীকী মহাসমাবেশে। সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ইরানে পালিত হয়েছে ভিন্ন মাত্রার মহররম—যেখানে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর শাহাদতের স্মরণ যেন মিলেছে জাতীয় আত্মপরিচয় ও জাগরণের বার্তায়।
ইরানি শহরজুড়ে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানগুলোতে এবার জায়গা করে নিয়েছে শুধু ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল নয়, বরং শহীদ কমান্ডার, নারী-শিশু এবং বিজ্ঞানীদের ছবি। ফ্লাইওভার থেকে বাজার পর্যন্ত ঝুলেছে শহীদের মুখচ্ছবি, উচ্চারিত হয়েছে প্রতিরোধের স্লোগান।
নেতানিয়াহুর দাবি, বাস্তবে উল্টো চিত্র
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, ‘ইরানের ৮০ শতাংশ মানুষ সরকার পতন চায়।’ এমনকি ইরানের সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভিও আহ্বান জানিয়েছিলেন বিদ্রোহের। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র—জাতীয় পতাকার নিচে সরকারবিরোধী অনেকেরও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আশুরা পরিণত হয়েছে প্রতিরোধের মিছিলে।
শোকানুষ্ঠানগুলোতে তবারক বিতরণ, কালো পতাকা ও শোক সংগীতের পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও ইয়েমেনসহ অন্যান্য যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের জন্য প্রার্থনা করা হয়। এ সময় ‘কারবালা তখন, গাজা এখন’ জাতীয় স্লোগানও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
রক্ত নয়, রক্তদান—শোক পালনের সংস্কার
ইরানে শরীর রক্তাক্ত করে শোক পালনের বদলে রক্তদানের সংস্কৃতি জোরদার করা হয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বিষয়টি নিয়ে ফতোয়া দিয়ে বলেছেন, “শরীর ক্ষতবিক্ষত করা শোক নয়, বরং শোকের বিকৃতি।” ফলে এবারের আশুরায় বিভিন্ন হাসপাতালে রক্তদানের আয়োজনই ছিল অন্যতম দৃষ্টান্ত।
কারবালা থেকে বর্তমান প্রতিরোধ
ইমাম খোমেনি থেকে আয়াতুল্লাহ খামেনি—সবাই আশুরাকে দেখেন ইসলামী বিপ্লব ও প্রতিরোধের শক্তির উৎস হিসেবে। বিশিষ্ট আলেমদের মতে, ইয়েমেন, ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের নানা প্রতিরোধ আন্দোলন আসলে ইমাম হোসাইন (আ.)-এর চেতনার আধুনিক রূপ।
আশুরার শক্তিতে উজ্জীবিত ইরান
ইসরায়েলি হামলা, পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যাকাণ্ড, আন্তর্জাতিক অবরোধ—সবকিছুর মাঝেও আশুরার সময়ে ইরানি জনগণের এই ঐক্য বার্তা দিয়েছে স্পষ্টভাবে: ইরান এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। শোক, কিন্তু দুর্বলতা নয়; বরং প্রতিবাদ আর ন্যায়ের পথে অনড় থাকার সংকল্পই ছিল এবারের আশুরার মূল বার্তা।





