সোমবার, মে ১৮, ২০২৬

‘নো ইলেকশন সিনড্রম’-এর তাৎপর্য কি রাজনীতিকরা বুঝতে পারছেন?

spot_img

ভিডিও

- Advertisement -

মে মাসের শুরুর দিকে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি মন্তব্য বেশ চিন্তা উদ্রেককারী। তিনি বলেছেন, ‘এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, ভোট চাওয়াই যেন অপরাধ।’

গত ৩ মে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এ কথা বলেন। তার এই মন্তব্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার সম্ভাবনার ব্যাপারে একটি নেতিবাচক ধারণা দেয়।

এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপট হলো, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বারবার বলছেন, গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের বিচার এবং দেশের সংবিধান ও নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। তাদের এক নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, ড. ইউনূসকে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতা দেখা তার একটি স্বপ্ন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, এক ধর্মীয় নেতা মোনাজাত করে ওয়াজ মাহফিলে জনগণকে শপথ পড়াচ্ছেন: ‘হে আল্লাহ, বাংলার জমিনে যেন নির্বাচন না হয়। ড. ইউনূস তাদের জন্য রহমত। এই রহমত থেকে তাদের যেন বঞ্চিত করা না হয়।’

এই ধরনের দোয়া-মোনাজাতকে দেশের বৃহত্তর অংশের মানুষ সমর্থন করে বলে মনে হয় না। এমনকি যারা হুজুরের সাথে সুর মিলিয়ে মোনাজাত করেছেন, তাদেরও সবাই এটা সমর্থন করেন কি না সন্দেহ আছে।

ড. ইউনূসকে পাঁচ বছরের জন্য সরকার প্রধান হিসাবে বহাল রাখতে এরকম আরও অনেক ‘তৎপরতা’ চোখে পড়ে। বলা হচ্ছে, ভোটের দরকার নেই। কারণ ভোট হলে আওয়ামী লীগের মতো আরেকটি দুর্নীতিবাজ সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। মূলত এই প্রচারণা শুরু করেছে ড. ইউনূসের ‘আশীর্বাদপুষ্ট দল’ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী, কট্টর ইসলামপন্থী হেফাজতে ইসলামসহ আরও কিছু সংগঠন।

এক উপদেষ্টা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, শুধু নির্বাচনের জন্য এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেনি। তারা এসেছেন রাষ্ট্র সংস্কার করতে।

ফলে এটি বোঝাই যাচ্ছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান বিবেচনায় নির্বাচন নেই।

দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি যখন দ্রুত নির্বাচনের কথা বলছে, ঠিক সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ফোরামে নির্বাচন যেন না হয়, সেরকম প্রচারণাও চলছে। যার মধ্য দিয়ে নির্বাচন চাওয়াকে দুর্নীতি করার সাথে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে।  হয়েছে। বস্তুত তারেক রহমান ওই বাস্তবতা মাথায় রেখেই কথাটি বলেছেন।

ড. ইউনূস ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর মানুষের আশা ছিল তিনি একটি নিরপেক্ষ প্রশাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করবেন; পুলিশের মধ্যে থাকা দলীয় কর্মকতাদের সরিয়ে দিয়ে হত্যাসহ অন্যান্য গণবিরোধী কাজের জন্য বিচারের ব্যবস্থা করবেন; দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন; আওয়ামী লীগের আশীর্বাদপুষ্ট নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করে নির্বাচনের পথ সুগম করবেন এবং দেশের মানুষের কাছে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রস্তাবনা তৈরি করে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পেশ করবেন।

কিন্তু দেখা গেল নির্বাচনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে সরকার সংবিধান পুনর্লিখনের মতো সংবেদনশীল এবং ‘বিপজ্জনক’ বিষয়ে মনোযোগ দিলো। একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান না থাকলে নির্বাচন হবে না। প্রায় ১০ মাসেও সংবিধান ও দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি। বরং নির্বাচনকে একটি বিতর্কিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে বা নির্বাচনকে একটি খারাপ বিষয় হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে।

সত্যি বলতে গেলে, দেশের কিছু মানুষও মনে করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। অতএব নির্বাচন দরকার নেই। তবে তারা যে জামায়াত অথবা অন্য কোনো ইসলামী দলকে সমর্থন করছে, বিষয়টা এমনও নয়।

জনগণের এমন মনোভাবের কারণেই হয়তো অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম অনেকটা নির্বাচন-বিমুখ।

সরকার পরিচালনা ও রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ হওয়ায় এই সরকার গত প্রায় ১০ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে জনজীবনের দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি। দেশ চলছে অনেকটা অভিভাবকহীন এবং মবতন্ত্রের মাধ্যমে, যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে একটি বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ দিতে হবে, সেটি হলো তারা দেশকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে।

আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে যা করেছে সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। আওয়ামী লীগের দুর্নীতি অপকর্ম প্রমাণে কোনো সাক্ষীরও দরকার হয় না।

তবে বিএনপি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার প্রধান কারণ দুটি। প্রথমত, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার সাথে সাথে রাস্তাঘাট, ফুটপাত থেকে শুরু করে যেসকল প্রতিষ্ঠান ও জায়গা আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল সেগুলো হাত বদল হয়ে রাতারাতি বিএনপি নেতা ও তার অঙ্গ সংগঠনের হাতে চলে যায়। রাতারাতি তাদের হাতে চলে আসে অঢেল টাকা, ক্ষমতা, প্রভাব। আওয়ামী লীগ চলে গেলেও চাঁদাবাজি শেষ হয়নি। সরকারি টেন্ডার চলে যায় বিএনপির দখলে।

এই কাজগুলোকে এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য প্রতিপক্ষকরা ফলাও করে প্রচার করছে। ফলে বেশ চাপে পড়েছে বিএনপি।

বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে বিএনপির পক্ষ থেকে অনেককে বহিষ্কার করা হয়েছে ও বিভিন্ন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দলীয় কোন্দলের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে হানাহানির ঘটনা দলের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং করছে।

তবে বিএনপি নেতারাই যে কেবল এই সকল অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন তা নয়। যে দল যেখানে পারছেন, একই কাজ করে যাচ্ছে। অনেক তরুণ লেখাপড়া বাদ দিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিস-আদালতে বসে ঠিকাদারি, টেন্ডারবাজি করে বেড়াচ্ছেন। এগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আসছে। যদিও এর সংখ্যা কম। কিছুদিন পরে হয়তো অনেকের নানাবিধ অপকর্মের ভিডিও ক্লিপ আসতে থাকবে। সেজন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে।

২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে আধা-সামরিক শাসন জারির আগ পর্যন্ত বিএনপির শাসনামল যাদের মনে আছে, তাদের অনেকেই মনে করেন বিএনপির চরিত্র হয়তো বদলায়নি। সে কারণে তাদের একটি অংশও হতাশা থেকে বলছেন, নির্বাচনের দরকার নেই। এখন সরকারে যিনি আছেন, তিনি সম্মনিত মানুষ। তিনিই থাকুন কিছুদিন।

যদিও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছাতে বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে একটি মানবিক করিডোর (চ্যানেল) স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে বেশ চাপে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তে অথবা আলোচনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মুহাম্মদ ইউনূসের ‘বিতর্কিত’ নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের (যাকে বিএনপি বিদেশি নাগরিক বলেছে) একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র জনমনে এই সরকার সম্পর্কে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেছেন, করিডোর স্থাপন নিয়ে যে যাই বলুক কিছু যায় আসে না।

বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাকে বাদ দিতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানিয়েছে। দেশের সশস্ত্র বাহিনীও তার কাজ বাস্তবায়ন হতে দেবে না বলে জানিয়েছে।

বিএনপি, সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে। দেশের মানুষ মনে করে ১০ মাস হয়েছে, কিন্তু দেশের অবস্থার কোনো দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। তাই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে।

যদিও কিছু মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম বলছে নির্বাচন দরকার নেই। শঙ্কাটি এখানেই। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির জন্ম হয়েছে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচন এই দেশে একটি উৎসব। সেই দেশে কেন মানুষ নির্বাচন-বিরোধী কথা বলছে, সেটি বোঝা দরকার।

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নির্বাচন-বিমুখতার মূল কারণ হলো, তারা বড় হয়েছে শেখ হাসিনার শাসনামলে। গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে কীভাবে জোচ্চুরির মাধ্যমে জালিয়াতির নির্বাচন করে দেশের মানুষের ওপর দুঃশাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়, তা এই তরুণরা দেখেছে। যার পরিণতিতে জুলাই অভ্যুত্থানে হাজারের বেশি মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে।

সুতরাং তারা মনে করছে নির্বাচন মানেই জালিয়াতি, মানুষকে ঠকানো। তারা ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনও সেভাবে দেখেনি। ফলে তারা হয়তো বুঝতে পারছে না একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কী! কীভাবে সেটি কাজ করে। আর এর সুফলই বা কী।

একটি অংশের মানুষ মনে করে ভোট মানেই দুর্নীতি, ভোট মানেই দুঃশাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘন। ভোট মানেই দলীয়করণের লাইসেন্স ইত্যাদি।

তাদের বোঝাতে হবে, নির্বাচন কেন প্রয়োজন।

রাষ্ট্রের অভিভাবকত্ব থাকে একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে। সারা বিশ্বে তাই হয়। এটিই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। এর চেয়ে ভালো ব্যবস্থা পৃথিবীতে আসেনি।

সুষ্ঠু ভোট ছাড়া দেশের মানুষের কাছে কোনো শাসকের ন্যূনতম জবাবদিহি থাকে না। সে স্বৈরাচারী হতে বাধ্য। ভোট ছাড়া, জবাবদিহি ছাড়া কোনো ফেরেশতার মতো মানুষকে ক্ষমতায় বসালেও সে ইবলিশে রূপান্তরিত হবে। কারণ স্বৈরাচারী হওয়া মানুষের সহজাতপ্রবৃত্তি। সে কাউকে জবাবদিহি করতে চায় না। এই বিবেচনায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জনগণের কাছে জবাবদিহির কথা বলা হয়।

কোনো দেশে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার আসার সাথে সাথে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানে সেই নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে এবং জনরায়কে মানতে বাধ্য থাকে। রাষ্ট্রে ও সমাজে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক শর্ত পূরণ হয়।

আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর অধিষ্ঠিত সরকার গুণগত পরিবর্তন আনতে পারলে তবেই দেশের সকল শ্রেণির মানুষ একটি গণতান্ত্রিক দেশে এবং সমাজে নির্বাচনের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবে। শুধু কথা বলে তাদের বোঝানো যাবে না। রাজনীতিবিদদের এখানেই চিন্তা করতে হবে।

জনগণের এই ভুল ভাঙাতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকেই। বিশেষ করে বিএনপিকে। যদি অস্বাভাবিক কিছু না ঘটে, তাহলে আগামী নির্বাচনে দলটি সরকার গঠন করবে। সরকার গঠন করেই তাদের দেখাতে হবে যে, অনির্বাচিত ইউনূস সরকার এবং একটি নির্বাচিত সরকারের মধ্যে গুণগত পার্থক্য কী। দিতে হবে সুশাসন। একটি কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা যেখানে নির্বাহী বিভাগকে প্রকৃতই জবাবদিহি করা যাবে।

রাজনৈতিক দল ও নেতাদেরই প্রমাণ করতে হবে কেবল একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। এগিয়ে নিতে পারে দেশকে। অন্য কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে তা সম্ভব নয়।

তার অন্যথা হলে দেশের মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে স্বৈরাচারী এবং অনির্বাচিত সরকারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে, যা দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে একটি মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে।

জনগণের একটি অংশের মধ্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দুর্দশার ফলে হতাশা থেকে সৃষ্ট ভোটের প্রতি অনাগ্রহের কারণেই হয়তো সংবিধান সংস্কার কমিশন বাংলাদেশকে ‘প্রজাতন্ত্রের’ পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছে।

এই ‘নাগরিকতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠিত হলে অনির্বাচিত শহরভিত্তিক নগণ্য সংখ্যক ‘নাগরিক সমাজ’-এর সদস্যরা সাংবিধানিকভাবে সংসদ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনাভোটে ক্ষমতার ভাগ ভোগ করবেন এবং তাদের আর্থিকসহ সকল সুবিধা এ দেশের মানুষকে বহন করতে হবে। প্রতিষ্ঠিত হবে অভিজাততন্ত্র। এই ব্যবস্থা স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির মূল স্পিরিটের সাথে যায় না।

লাখ লাখ মানুষের আত্মাহুতির পর পাওয়া এই স্বাধীন বাংলাদেশকে রক্ষার দায়িত্ব যেমন দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের, তেমনি রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও।

রাজনীতিকরা ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আরও স্বৈরাচারী অনির্বাচিত সরকার আসবে, যাদের মাধ্যমে কোনোভাবেই জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

একজন অনির্বাচিত ব্যক্তি যখন বলেন, রাজনীতিবিদরা ব্যর্থ এবং ৫৩ বছরে কেন তারা রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করেননি, তখন কি রাজনীতিবিদদের লজ্জা হয় না?

কামরান রেজা চৌধুরী
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক ও লেখক

(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বিডি আর্কাইভ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

- Advertisement -
spot_img

আলোচিত

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

ভিডিও