শুক্রবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২৫

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যেভাবে এল

spot_img

ভিডিও

- Advertisement -

হজরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কায় অবস্থানকালে তাঁর ঘরের ছাদ খুলে দেওয়া হয় এবং জিবরাইল (আ.) এসে তাঁর বুক বিদীর্ণ করে জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে দেন। এরপর হিকমত ও ইমানে ভর্তি একটি সোনার পাত্র এনে তাঁর বুকে ঢেলে দেন এবং তারপর তাঁকে দুনিয়ার আকাশের দিকে নিয়ে চলেন।

 

দুনিয়ার আকাশে পৌঁছে জিবরাইল (আ.) আসমানের রক্ষককে দরজা খুলতে বলেন। রক্ষক প্রথমে জিজ্ঞাসা করেন, জিবরাইল (আ.) কে এবং তাঁর সাথে কে আছেন। পরিচয় পাওয়ার পর দরজা খোলা হয়। দুনিয়ার আকাশে প্রবেশ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) আদম (আ.)-কে দেখতে পান, যিনি ডানে তাকালে হাসেন এবং বাঁ দিকে তাকালে কাঁদেন। জিবরাইল (আ.) জানান, ডানে জান্নাতিরা এবং বামে জাহান্নামিরা থাকায় আদম (আ.) এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান।

 

এরপর জিবরাইল (আ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দ্বিতীয় আসমানে নিয়ে যান। এভাবে তাঁরা বিভিন্ন আসমানে পৌঁছে আদম (আ.), ইদ্রিস (আ.), মুসা (আ.), ঈসা (আ.) ও ইব্রাহিম (আ.)-এর সাক্ষাৎ পান। আদম (আ.)-কে দুনিয়ার আকাশে এবং ইব্রাহিম (আ.)-কে ষষ্ঠ আকাশে পান।

 

ইবনে শিহাব ও আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাঁর উম্মতের জন্য ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেন। মুসা (আ.)-এর পরামর্শে রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর কাছে ফিরে যান এবং নামাজের সংখ্যা কমানোর আবেদন করেন। এভাবে কয়েকবার ফিরে গিয়ে নামাজের সংখ্যা ৫ ওয়াক্তে নামিয়ে আনেন। আল্লাহ বলেন, এই ৫ ওয়াক্ত নামাজ ৫০ ওয়াক্তের সমান পূণ্য হিসেবে গণ্য হবে।

 

মুসা (আ.) আরও কমানোর পরামর্শ দিলেও রাসুলুল্লাহ (সা.) আর ফিরে যেতে লজ্জাবোধ করেন। এরপর জিবরাইল (আ.) তাঁকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে যান। সেখানকার সৌন্দর্য তিনি অবলোকন করেন।

(সহিহ বুখারি ৩৪৯)

- Advertisement -
spot_img

আলোচিত

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

ভিডিও