ফেনী ও কুমিল্লায় রুকন সম্মেলন ও পথসভায় জামায়াত আমিরের বক্তব্য
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) ভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “ফ্যাসিবাদ রুখতে হলে বিকল্পমুখী নির্বাচনি ব্যবস্থা ছাড়া উপায় নেই।”
শনিবার ফেনী শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত রুকন সম্মেলন শেষে এক সুধী সমাবেশে তিনি বলেন, “আমরা রাষ্ট্রক্ষমতার লোভে লড়াই করছি না, আমাদের সংগ্রাম একটি ন্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। আমরা কারও সঙ্গে বেইমানি করিনি, করব না; বরং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করব।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লড়াই কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়, আমাদের সংগ্রাম একটি ভয়ংকর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, যার নাম ফ্যাসিবাদ। যতদিন এই অন্যায় ব্যবস্থা টিকে থাকবে, ততদিন আমাদের লড়াই চলবে।”
পুলিশের উদ্দেশে বার্তা
ডা. শফিক বলেন, “বাংলাদেশের ২৩২টি থানায় আমাদের সহায়তায় পুলিশ সদস্যরা আইনের কাজে ফিরেছে। আমরা তাদের বলব—আপনারা জনগণের পুলিশ হন, শাসকগোষ্ঠীর নয়।”
সম্মেলনে অন্যদের বক্তব্য
রুকন সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ ডা. আবদুল্লাহ মো. তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, মোহাম্মদ শাহজাহান ও জেলা আমির মুফতি আব্দুল হান্নান। সম্মেলনে ফেনী জেলার তিনটি আসনে মনোনীত প্রার্থীরাও বক্তব্য রাখেন।
‘যেনতেন নির্বাচন আর নয়’
এর আগে সকালে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার ও আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকায় পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১৪, ১৮ ও ২৪ মার্কা সাজানো নির্বাচনের আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি। এ ধরনের প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে জনগণ রক্ত দিয়ে যে বার্তা দিয়েছে, প্রয়োজনে আবারও তা দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “কোনোভাবেই যেনতেন নির্বাচন মেনে নেওয়া হবে না। যে অপশক্তি গণতন্ত্রকে পদদলিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। এই জাতি অতীতে কাউকে ছাড় দেয়নি, এবারও দেবে না।”
পথসভায় অংশগ্রহণ
পথসভাগুলোতে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগরের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার নেতৃবৃন্দ। বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, অধ্যাপক শাজাহান, অধ্যাপক আব্দুল মতিন, অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা।






