দিন দিন কমছে যাত্রী সংখ্যা। এই কারণে প্রতিদিনই গড়ে তিনটি করে ভারতগামী ফ্লাইট বাতিল করছে বাংলাদেশের বিমান সংস্থাগুলো। পরিস্থিতির বদল না হলে আগামী কয়েকদিনে আরো বেশি বিমান বাতিল করতে হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছে তারা।
গত জুলাই মাস থেকেই অস্থির বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে সেই অস্থিরতা আরো বেড়েছে। এখন সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ইস্যুদে পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে। এই অস্থিরতা এবং পরিস্থিতির কারণে সীমিত সংখ্যক ভিসা দিচ্ছে ভারত।
বাংলাদেশের বাসিন্দাদের জরুরী ভিত্তিতে এবং মেডিক্যাল ভিসা ছাড়া অন্য কোনো ভিসা দিচ্ছে না ভারত। এর ফলে ভারতে আসা বাংলাদেশির সংখ্যা হু হু করে কমছে। এখন বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার জন্য ট্রেন এবং বাস চলাচল বন্ধ। বাংলাদেশিদের ভরসা একমাত্র বিমান। কিন্তু, সেখানেও যাত্রী সংখ্যা কমতে শুরু করায় অনেকগুলো ফ্লাইট বাতিল করছে সংস্থাগুলো।
ইতিমধ্যেই কলকাতা এবং ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী দুটি এবং কলকাতা এবং চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচলকাররী একটি ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ প্রতিদিন দুটি করে বিমান ঢাকা এবং কলকাতার মধ্যে চলাচল করতো। এখন একটি ফ্লাইট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই পথে হেঁটেছে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সও। যাত্রী কমে যাওয়ার কারণে তারা চট্টগ্রামের ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে।
যদিও এখনো আগের মতই দৈনিক দুটি করে বিমান চালাচ্ছে ইন্ডিগো। তারা বাংলাদেশের পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী দিনে এই বিমানের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে এই সংস্থা।
সূত্রের খবর, কলকাতা থেকে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে ১২৫টি ফ্লাইট চলেছিলো। নভেম্বর মাসে তা কমে হয়েছে ৯৭। সেপ্টেম্বর মাসে ১৫,৪৭৯জন যাত্রী গেলেও নভেম্বর মাসে তা নেমে এসেছে ১২,৭৪৭-এ। সেপ্টেম্বর মাসে, বাংলাদেশ থেকে ১১৪টি বিমানে ১২,৫৪০জন এসেছিলেন। নভেম্বর মাসে এই সংখ্যা নেমে এসেছে ১০,১২১-এ।
জুলাই মাসে বাংলাদেশ বিমান ৫৯টি বিমান চালালেও নভেম্বর মাসে তা নেমে এসেছে ২৮এ-এ। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানের সংখ্যা ৮৪ থেকে ২৪-এ নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, শনিবারই, ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরে দুই দেশের মধ্যেকার সম্পর্ক বদলে গেছে। এই বাস্তবতার কথা মেনে নিয়েই তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নুতন করে করতে চাইছে বাংলাদেশ।






