সোমবার, মে ১৮, ২০২৬

ফেলানী ফিরেছিল কাঁটাতারে ঝুলে, ওয়াসিম ফিরলো ৩ মাস পর কফিনে, সীমান্ত যেন মরদেহ ফেরানোর পথ!

spot_img

ভিডিও

- Advertisement -

তিন মাস ধরে সীমান্তের ওপারে পড়ে ছিল ওয়াসিম আকরামের নিথর দেহ। কাঁটাতারের ওপাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকা এই যুবকের মরদেহ যেন আরেক ‘ফেলানী’-র গল্প বলে গেল। আজও সীমান্ত মানে মৃত্যু, গুলি, আর দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর। শনিবার ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরেছে ওয়াসিমের মরদেহ—যার দাফনে কেবল কান্না নয়, ছিল প্রতিটি চোখে ফেলানী হত্যার ক্ষতচিহ্ন।



ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের রমজান আলীর ছেলে ওয়াসিম আকরাম (২৮) সীমান্ত পেরিয়ে গরু আনার সময় ১১ এপ্রিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত হন। সীমান্তবর্তী ইছামতী নদীর ভারতীয় অংশে তার দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তিন মাস পর, নানা চেষ্টার পর অবশেষে শনিবার দুপুরে মেইন পিলার ৬০-এর কাছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তর করে। কাফনে মোড়া ছেলের মরদেহ গ্রহণ করেন পিতা রমজান আলী ও বড় ভাই মেহেদী হাসান।

ওয়াসিমের দাফন হয় নিজের গ্রামেই, পারিবারিক কবরস্থানে। সেখানে উপস্থিত স্বজনদের চোখে শুধু কান্না নয়, ছিল ক্ষোভ—যেটি ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারির কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন কাঁটাতারের ঝুলন্ত দেহে ফিরে এসেছিল ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানী।

ওয়াসিমের মৃত্যু যেন সেই একই ট্র্যাজেডির অনুরণন—শুধু জায়গা বদলেছে, নাম বদলেছে; কিন্তু না বদলেছে সীমান্তের নির্মমতা, না বদলেছে গুলির ভাষা।

মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, বিজিবি নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়ে অবশেষে মরদেহ ফেরত আনে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়।

সীমান্ত হত্যার ইতিহাসে ফেলানী হয়ে উঠেছে এক রক্তাক্ত প্রতীক। আজ ওয়াসিমের মৃত্যু সেই প্রতীকেরই এক নতুন অধ্যায়—যেখানে কাঁটাতার নয়তো, কিন্তু কাফনের কাপড় জড়িয়ে কেউ আরেকবার প্রশ্ন ছুঁড়ে যায়: “সীমান্ত মানেই কি শুধু লাশ ফেরার রাস্তা?”

এই ঘটনায় রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে। প্রতিবছর শতাধিক গুলি, অথচ বিচার নেই, জবাবদিহি নেই।

নিহতের বাবা রমজান আলী বলেন,

“ছেলেকে শেষবারের মতো দেখার জন্য তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। ওর কোনো দোষ ছিল না। ও ফেলানী ছিল না, কিন্তু ওর ভাগ্যও তেমনই রক্তাক্ত।”

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক যতোই সুদৃঢ় হোক, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এক জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন—যার প্রতিবাদ রাষ্ট্রীয়ভাবে না হলে ফেলানীর মতো ওয়াসিমেরাও ফিরে আসবে শুধু নিথর শরীর হয়ে।

- Advertisement -
spot_img

আলোচিত

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

ভিডিও