শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

রিফিউজি থেকে উঠে মাদ্রিদের সর্বোচ্চ ট্রফি জেতা! বিদায় ম্যাজিশিয়ান মদ্রিচ

spot_img

ভিডিও

- Advertisement -

লুকা মদ্রিচ যখন তার মায়ের গর্ভে, তখন দেশে সিভিল ওয়ার। রিফিউজি ক্যাম্পে, জন্ম হয় তার, সেখানেই বেড়ে ওঠা। আজ থেকে ৩৭ বছর আগের কথা, ক্রোয়েটরা পার করছিল অতি দুঃসময়।

“সোভিয়েত ইউনিয়নের” সমাজতান্ত্রিক ব্যাবস্থা আর কতকাল মানা যায়! তাই প্রভাবশালীদের থেকে অল্পদিন আগেই নিজেদের ছুটিয়ে নিলো “যুগোস্লাভিয়া”। ওই গৃহ যুদ্ধের সময় ক্রোয়েশিয়ার “যাদার” গ্রামে দরিদ্র পরিবারে “স্টিপ মদ্রিচ” ও “রাদোজকা” জন্ম হয় মদ্রিচের। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় বাধ্য হয়ে মা রাডোজকা পুত্র লুকাকে নিয়ে কিছুটা দূরে অবস্থানরত “হোটেল কলভারে” অবস্থান নেয়।

শৈশবে মদ্রিচের কাছের এবং সবচেয়ে প্রিয় মানুষ ছিল দাদা। সেই দাদাকে যু দ্ধে গু লি করে তার সামনে খু*ন করা হয়েছিল। মদ্রিচ ছোট থেকেই আদর-যত্ন থেকে বঞ্চিত হন। তার বাবা রাডোজকা ছিলেন একজন ফ্যাক্টরি কর্মী।

বয়স যখন ৫, লুকা মদ্রিচ তখন ক্যাম্পের সামনে ফুটবল খেলতেন কোনরকম করেই, তবে বো মার শব্দ শুনলেই দৌড়ে পালিয়ে আসতেন। এমনকি লুকা মদ্রিচের পরিবার যেই বাসায় থাকতেন সেই বাসাটা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া বো ম্ব ব্লাস্টিং করে। এসব দেখে হয়তো মদ্রিচ খুব আফসোস করেই বলতেন, জীবন নিয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি অভিযোগ ব্যক্ত করতেন।

শৈশবটা এতো অনিশ্চয়তা, অভাব, অনাটনের মধ্য দিয়ে নাও তো যেতে পারতো… বয়স যখন ১০, তখন স্পিল্ট নামের এক ভদ্রলোক মদ্রিচকে স্কাউট করেন। মদ্রিচে হয়তো ভেবছিল ঈশ্বর বোধ হয় এবার মুখ তুলে তাকিয়েছে। এতো অনিশ্চয়তা, অনিরাপত্তা, মৃ ত্যুর সময় গননা এসব থেকে অন্তত রেহাই পাওয়া গেল।

তবে, পরবর্তীতে সেই কোচও বলে দেন, “এই ছেলেকে দিয়ে আর যাই হোক ফুটবল হবে না! খেলার শারীরিক সক্ষমতা ওর নেই, খুবই দুর্বল” আর্সেনালের কোচ ওয়েঙ্গার তো বলেই দিয়েছিলেন তাকে দিয়ে প্রিমিয়ার লিগের এত ফিজিকাল ফুটবল সম্ভব না। মাদ্রিদে এসে ট্যাগ পেয়েছিলেন Worst signing এর। জাদারের হয়ে খেলার সময়ে বেশিরভাগ সময়েই যু দ্ধা ব স্থায় থাকায় শুনতে হতো বো মা র শব্দ। এমনও হয়েছে তারা অনুশীলন করছেন এমন সময়ে সাইরেন বেজে উঠলো এবং ক্লাবের প্রত্যেককেই সাথে সাথে একটা জায়গায় গিয়ে একদম পিন ড্রপ সাইলেন্ট করে বসে থাকতো। আশেপাশের মানুষগুলোও তখন বোমার আঘাত থেকে বাঁচার জন্য ছুটোছুটি করতো।

এই সবকিছুই মদ্রিচের চোখের সামনে হতো! ইংল্যান্ডে আসার পর এখানকার মানুষ তাকে নানান সময়ে বিভিন্ন কটূক্তি করে লাঞ্চিত করতেম। কেউ বলতো খাটো, কেউ বলতো ওজনহীন মানুষ, কেউ বলতো গোলাপী। এসব মদ্রিচেকে একেবারের জন্য কষ্ট দেইনি, দিবেই বা কিভাবে যার যুদ্ধে বেচে থাকারই কথা না। যার সামনে তার দাদাকে গু*লি করে হ ত্যা করা হয়েছিল তিনি যে এতটুকু এসেছেন এটাই তো বেশ।

শেষ মেশ মাদ্রিদে এসে পেতে হয়েছিল Worst signing এর তকমা। কত ট্রল ব্যান্টার করা হতো। সবশেষে মদ্রিচ মানেই একটা স্পেশাল কিছু! স্বাধীনতার যুদ্ধের জন্য যার বেচে থাকারই কথা ছিলো না খাঁটো ও দূর্বল, খেলতে লজ্জা দেয়া হতো৷ এই ছেলে কে দিয়ে আর যাই হোক ফুটবল খেলা সম্ভব না! রিয়াল মাদ্রিদ এর সবচেয়ে বাজে সাইনিং! সেই ছেলেটা সময়ের মাদ্রিদ ছাড়ল ক্লাব ইতিহাসের গ্রেটেস্ট মিডফিল্ডার হিসেবে, সাথে হয়েছিলেন বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়! ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়!

স্কুল, টিউশন ফেরত বিকেলের গায়ে কিংবা কলেজ জীবনের রাত জাগার মেমোরিতে লুকা মদ্রিচ একটা ইর্টানাল পোস্টার। মাদ্রিদ ছাড়ার সাথে তিনি যে কত কিছু যে নিয়ে যাচ্ছেন তা যদি তিনি নিজে জানতেন

- Advertisement -
spot_img

আলোচিত

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বশেষ

ভিডিও