খবরটা দেখে তাজ্জব বনে গেলাম! রবিবার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সফররত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির এক প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বলেছে, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হলো রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন এবং জামায়াত মনে করে, চীন এই ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে; যেহেতু মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের খুবই ভালো সম্পর্ক রয়েছে। সাংবাদিকদের কাছে জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এই বক্তব্য দিয়েছেন, যা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
কেন তাজ্জব হলাম তার কারণ, বিষয়টি অনেকটা হত্যাকারীর কাছে হত্যার বিচার চাওয়ার মতো। যে চীনের স্বার্থে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে গণহত্যার মাধ্যমে কয়েক দিনের মধ্যে রাখাইন থেকে উৎখাত করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হলো, সেই চীনের কাছে গিয়েই চীনের পাশে মিয়ানমারের কৌশলগত রাজ্য রাখাইন (আরাকানে) মুসলিমদের জন্য স্বাধীন দেশ দাবি করা কতটুকু বুদ্ধিমান কাজ!
বাংলাদেশে একটি প্রচলিত ধারণা, বিএনপি-আওয়ামী লীগের মতো বড় দলগুলোর মধ্যে লেখাপড়ার চর্চা নেই; আছে জামায়াত-শিবিরের মধ্যে। আমিও তাই মনে করতাম। কিন্তু তাদের নায়েবে আমীরের এই বক্তব্যের পর আমার মনে হয়েছে, দলটিতে আন্তর্জাতিক এবং ভূরাজনীতি বোঝেন এমন লোক হয়তো নেতৃত্বে নেই। থাকলে নিঃসন্দেহে এমন প্রস্তাব আসতো না।
রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর একটি সন্দেহ নেই। তারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের বিবেকবান মানুষ তাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের পক্ষে।
জামায়াত হয়তো রোহিঙ্গাদের অমানবিক জীবন নিয়ে আশঙ্কার জায়গা থেকেই প্রস্তাবটি করেছে। কিন্তু এর ফলাফল হিতে বিপরীত হতে পারে। নতুন করে আরাকানে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের প্রতি নেমে আসতে পারে নির্যাতন ও সহিংসতা। এর সাথে বাংলাদেশও সংকটে পড়তে পারে।
একই দিন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, জাতিসংঘ আরাকানে যে মানবিক সহয়তা করিডোর স্থাপনের প্রস্তাব করেছে, কিছু শর্তে বাংলাদেশ তা দিতে রাজি এবং এর মাধ্যমে আরাকান আর্মির সাথে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হতে পারে।
গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ সফরে এসে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস বাংলাদেশকে আরাকান আর্মির সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন এবং আরাকান রাজ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠার কথা বলেন।
মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারি বাহিনীকে পরাজিত করে রোহিঙ্গাদের আবাসভূমি রাখাইন রাজ্যের প্রায় পুরোটাই দখল করেছে আরাকান আর্মি। তবে অনেকেই বলছেন, আরাকান আর্মি হয়তো চীনবিরোধী পশ্চিমাদের সাথে হাত মেলাবে। আবার অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশের প্রতিবেশী পরিবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী হতে যাচ্ছে স্বাধীন আরাকান রাষ্ট্র, মিয়ানমার নয়।
কিন্তু তারা ভুল করছেন বলে মনে হয়। মিয়ানমার থেকে স্বাধীন হয়ে সার্বভৌম রাষ্ট্র স্থাপন করতে চায় না আরাকান আর্মি। তারা চায় মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় বামার জনগোষ্ঠীর প্রভাব থেকে নিজেদের মুক্ত করে মিয়ানমার ইউনিয়নের সাথে যুক্ত থেকেই অনেকটা স্বাধীনভাবে শাসন করতে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান, গুতেরেসের সফর এবং জামায়াতের প্রস্তাব—সব মিলিয়ে মিয়ানমারের প্রতিবেশী চীনের চিন্তিত হওয়ার কারণ যথেষ্ট রয়েছে। চীন কোনোক্রমেই মিয়ানমার এবং আরাকানকে তার বলয় থেকে সরে যেতে দেবে না।
গত ১৭ এপ্রিল ফরেন অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিনে China’s Double Game in Myanmar শীর্ষক একটি বিশ্লেষণধর্মী লেখা ছাপা হয়েছে। ওই নিবন্ধে পরিষ্কার ব্যাখ্যা আছে, চীন কেন আরাকান আর্মিসহ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বিদ্রোহী গ্রুপগুলো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে এবং একইসাথে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পতন যেন না হয়, সেটিও নিশ্চিত করছে।
প্রশ্ন হলো, কেন মিয়ানমার ও আরাকান চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
প্রথমটি হলো, চীন বঙ্গোপসাগরে অবস্থান চায়। বঙ্গোপসাগরে তার মূল স্বার্থ হচ্ছে মালাক্কা প্রণালীতে যে সরু সাগরপথ রয়েছে সেখানে যদি কোনোদিন পশ্চিমারা চীনা জাহাজ আটকে দেয়, তাহলে তাদের জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে। শিল্প থেকে শুরু করে সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হবে। এই হুমকি বিবেচনায় নিয়ে তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চিয়াকফু গভীর সমুদ্র বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে। সেখানে প্রহরায় রয়েছে চীনের বিশেষ বাহিনী।
মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে জাহাজে করে তেল ও গ্যাস এনে চিয়াকফু থেকে আরাকানের ভূমি ব্যবহার করে পাইপলাইনের মাধ্যমে তার স্থলবেষ্টিত ইউনান প্রদেশে নিয়ে যাবে। এটি একটি বিকল্প রুট।
দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারে কোনো পশ্চিমাপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে সেটি চীনের জন্য হুমকি তৈরি করবে।
তৃতীয়ত, মিয়ানমারের ভূমি ব্যবহার করে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বৃদ্ধি করতে চায় চীনের প্রতিকূল শক্তি ভারত। মিয়ানমারের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ থাকলে ভারতের সেই উদ্দেশ্য সফল হওয়া কঠিন। ভারত এক দশকের বেশি সময় আগে রাখাইনের রাজধানী সিত্তেতে কালাদান মাল্টিমোডাল প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশকে পাশ কাটিয়ে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আট রাজ্যে পৌঁছানো। আরাকার আর্মি রাখাইন দখল করে নেওয়ার পর কালাদান প্রকল্পের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।
চতুর্থত, মিয়ানমার এখন হেভি রেয়ার আর্থ ম্যাটেরিয়ালের অন্যতম উৎস, যা চীনের ইলেকট্রিক গাড়ি এবং বায়ুচালিত বিদ্যুতের টার্বাইনে ব্যবহৃত হয়। এই সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে সমস্যায় পড়বে চীন।
মিয়ানমারের কৌশলগত দিক বিবেচনায় নিয়ে ২০২১ সালে নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চির দল ক্ষমতায় এলে তাকে সরিয়ে সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠা করে চীন।
সার্বিক বিবেচনায় আরাকান আর্মিসহ মিয়ানমারের সকল বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সামরিক সরকারকে একযোগে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে চীন, যাতে কোনোভাবেই তার স্বার্থ ব্যাহত না হয়।
তবে চীন কোনোক্রমেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের সমর্থন করবে না। মিয়ানমার সামরিক জান্তা, মিয়ানমারের মূলধারার সকল রাজনৈতিক দল এবং আরাকান আর্মি—সকলেই মারাত্মক রকমের মুসলিমবিরোধী এবং তারা কেউই চায় না রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকুক। মিয়ানমারের রাষ্ট্রকাঠামো রোহিঙ্গাদের অবৈধ বাংলাদেশি মনে করে তাদের বের করে দেওয়ার পক্ষে। সেই সুযোগই কাজে লাগিয়েছে চীন। চীনের দরকার মিয়ানমারকে, রোহিঙ্গাদের নয়।
রাষ্ট্র হিসেবে চীনও মুসলিমবিরোধী। চীনের একমাত্র মুসলিমপ্রধান এবং খনিজসম্পদে ভরপুর জিনজিয়াং প্রদেশে এক কোটি ১৫ লাখ উইঘুর মুসলিমের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ মানুষকে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে আটকে রেখে ইসলামকে ভুলিয়ে দেওয়ার বিতর্কিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে চীন। সেখানে নামাজ পড়া, রোজা রাখা, কোরাআন শরীফ পড়া—সবই অপরাধ!
জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর, আরাকান আর্মির সাথে কথা বলার পরামর্শ, বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে আরাকানে মানবিক করিডোর স্থাপন ইত্যাদি বিষয়ে চীনের নতুন কৌশল নির্ধারণ করা দরকার এবং সেই কৌশল ঠিক করতে বাংলাদেশের অবস্থান জানা দরকার। সেই উদ্দেশ্যেই হয়তো চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসেছে।
চীনারা কীভাবে ছোটোখাট ঘটনা দিয়ে বড় বড় সিদ্ধান্ত নেয় তার একটি উদাহরণ উল্লেখ করতে চাই। ঘটনাটি ২০০৯ সালে শুনেছিলাম গাইবান্ধার পলাশবাড়ী আসন থেকে ছয়বার নির্বাচিত জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ-সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী টি.আই.এম. ফজলে রাব্বী চৌধুরী।
তিনি বলেন, এরশাদের শাসনামলে চীন সরকারের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে সে দেশের সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। উদ্দেশ্য বাংলাদেশের সাথে চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করা এবং কোন কোন খাতে চীনা বিনয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সেই পদস্থ কর্মকর্তার প্রটোকলের দায়িত্ব দেওয়া হয় ড. ফজলে রাব্বী চৌধুরীকে। প্রেসিডেন্ট এরশাদ স্বয়ং তাকে দায়িত্বটি দিয়েছিলেন। সেই কর্মকর্তা বাংলাদেশে এলে তাকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল দিয়ে বিমানবন্দর থেকে হোটেল সোনারগাঁওয়ে নিয়ে আসা হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।
ড. ফজলে রাব্বী চৌধুরী আমাকে বলেন, দুই দিন পর সেই চীনা নেতা জানালেন তিনি তখনই দেশে ফিরে যেতে চান। বিষয়টি জেনে ফজলে রাব্বী চৌধুরী হকচকিত হয়ে যান। ভেবেছিলেন, খাতির যত্নে কোনো ঘাটতি হয়েছে কি না। যদি উনি রাগ করে থাকেন তাহলে রাষ্ট্রপতি এরশাদ তাকে দোষারোপ করবেন। এই আশঙ্কায় তিনি চীনের সেই নেতার কাছে গিয়ে বললেন, ‘স্যার, আপনার কি কোন সমস্যা হয়েছে? আমাদের আতিথিয়তায় কোনো ঘাটতি হয়েছে? কেউ কি বাজে কথা বলেছে অথবা বাজে আচরণ করেছে? যদি হয়ে থাকে, আমি সেজন্য ক্ষমা চাচ্ছি। কিন্তু আপনি এভাবে সফর শেষ না করে বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন না। আমাদের ভীষণ সমস্যায় পড়তে হবে।’
এমন কথায় চীনা ওই নেতা বললেন, ‘না, কোনো সমস্যা হয়নি। প্রটোকল থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া, থাকার ব্যবস্থা সবই বিশ্বমানের। সেগুলো কোন সমস্যা নয়।’
‘তাহলে আপনি চলে যাচ্ছেন কেন? সফর শেষ করে যান।’
এবার চীনের ওই নেতা বললেন, ‘দেখো, আমি তোমাদের আতিথেয়তায় মুগ্ধ। কিন্তু আমি যে উদ্দেশ্যে এসেছিলাম, আমার সেই উদ্দেশ্য এরইমধ্যে সফল হয়ে গেছে। আমি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বুঝতে পেরেছি। এর বাইরে আর কিছু দরকার নেই আমার।’
এরপর ফজলে রাব্বী চৌধুরীর প্রশ্ন ছিল, ‘আপনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে জেনে ফেললেন? আরও সভা করার বাকি আছে।’
জবাবে তিনি বললেন, ‘দেখো, চীনে একটি প্রবাদ আছে: কোনো দেশ বা সমাজের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে গেলে তাদের গরুর স্বাস্থ্য দেখবে। গরুর স্বাস্থ্য যদি ভালো হয়, মোটা হয়, তাহলে ধরে নেবে দেশের মানুষ খেতে পায়, শান্তিতে আছে। আর গরুর স্বাস্থ্য যদি রোগা হয়, তাহলে ধরে নেবে সে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। কারণ কৃষক যদি খাবার পায় তাহলে সর্বপ্রথম সে তার গরুকে পর্যাপ্ত খাবার দেবে। আমি বিমানবন্দর থেকে যখন হোটেলে আসছিলাম, তখন ফাঁকা মাঠে চরে বেড়ানো গরুগুলোকে দেখছিলাম। গরুগুলো রোগা, শীর্ণ দেহের। অনেকগুলোর হাড় দেখা যাচ্ছে। এটি দেখে আমি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বুঝে গেছি। শুধু শুধু আরও তিনদিন তোমাদের এখানে অবস্থান করে তোমাদের এবং আমার সময় নষ্ট করার কোনো অর্থ নেই।’
ফজলে রাব্বী চৌধুরী বললেন, ‘আমি কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেলাম। চিন্তা করলাম কথা তো ঠিক! আর বুঝে গেলাম বাংলাদেশের সাথে কী অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন করবে চীন!’
বাংলাদেশে বর্তমানে অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর সাথে সভা করে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদল যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে, বাংলাদেশের সবাই জামায়াতের মতো রোহিঙ্গাদের জন্য আরাকানে স্বাধীন রাষ্ট্র চায়, তাহলে আমাদের সর্বনাশ।
তারা যদি মনে করে, বাংলাদেশ এমন কিছু হতে পারে যা চীনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে, তাহলে আমাদের জন্য ভীষণ সমস্যা অপেক্ষা করছে। কেননা চীন কখনো চাইবে না আরাকানে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি স্বাধীন দেশ হোক।
চীনারা কি জানে না যে, আরাকানে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা এবং আমেরিকান স্যাটেলাইট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা একই কথা?
রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবি করে জামায়াত প্রকারান্তরে বাংলাদেশের ক্ষতিই করেছে। চীনারা বুঝবে না যে এটি বাংলাদেশের একটি ছোট রাজনৈতিক দলের (জামায়াতকে ছোট বলছি, বিগত নির্বাচনে দলটির প্রাপ্ত ভোট ও সংসদে আসনের ভিত্তিতে) মতামত। তারা ধরে নেবে এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশি মুসলিমদের মতামত।
আরাকানে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক করিডোর দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত চীনকে ক্ষিপ্ত করে তুলতে পারে। তারা মনে করতে পারে, মানবিক করিডোর দিয়ে অস্ত্র যেতে পারে। তেমনটি মনে করলে এর ফলাফল বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গাদের জন্য ভয়াবহ হতে পারে। ফলে ভূরাজনীতির আলোকে জামায়াতের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের দাবি জানানোই হতো সবচেয়ে যৌক্তিক।
কামরান রেজা চৌধুরী
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক ও লেখক
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বিডি আর্কাইভ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)
রোহিঙ্গাদের জন্য জামায়াতের স্বাধীন রাষ্ট্র দাবি কি বাংলাদেশকে সংকটে ফেলবে?
- Advertisement -





