“সত্যের সাথে ইতিহাসের পথে”—এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করে দুই বছর পূর্ণ করলো বিডি আর্কাইভ। নামের মধ্যেই এর নীতি, আদর্শ ও দর্শন স্পষ্ট।
বিডি আর্কাইভ শুরু থেকেই শ্রেণি, বয়স, লিঙ্গ, সম্প্রদায় ও মতবিশ্বাস-নির্বিশেষে সবার তথ্য ও মতামতের চাহিদার প্রতি সজাগ থেকেছে। এর সম্পাদকীয় নীতির কেন্দ্রে রয়েছে উদার গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, আপামর মানুষের মঙ্গল ও উন্নয়ন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অবিচল দায়বদ্ধতা।
নারী, শিশু, ধর্মীয় সম্প্রদায় বা ক্ষুদ্র জাতিসত্তার আত্মমর্যাদা ও অধিকারে ‘বিডি আর্কাইভ’ বিশ্বাসী। এর সাংবাদিকতার লক্ষ্য আপামর জনমানুষের সৃষ্টিশীল উদ্যোগের সহযোগিতা এবং ভবিষৎমুখী মঙ্গল ও উন্নয়ন। মানুষের আত্মমর্যাদা ও অধিকারের প্রতি আমরা সজাগ ও সংবেদনশীল।
লেখা, ছবি বা ভিডিওতে আমরা মাদক সেবন, নেশার অনুভূতি, আত্মহত্যার উপায়, বিস্ফোরক বানানোর পদ্ধতি–জাতীয় অপরাধমূলক ঘটনার বিশদ বিবরণ দেয়া থেকে বিরত থাকি। কোনো সংবাদ বা কনটেন্ট যাতে কোনো ধরনের ধর্মীয় বা রাজনৈতিক উসকানি তৈরি না করে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকি। আমরা শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব জেন্ডার-নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করি।
গণমাধ্যম যখন মানুষের তথ্য-বিনোদন, বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম হয়ে ওঠে, তখন তার দায় ও দায়িত্ব অনেক বেশি। সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে গুজব, বিভ্রান্তি, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের ভিড়ে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ খুঁজে বের করা একটি কঠিন কাজ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আরও কিছু টুলসের মাধ্যমে ফ্যাক্ট চেক বা খবরের সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ থাকলেও সাধারণ মানুষের পক্ষে সব খবরের সত্যতা যাচাই করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি মানুষের হয়তো এত সময়ও নেই। ফলে কোনো একটি গুজব, বিভ্রান্তি, ভুল খবর বা অর্ধ সত্য সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়ে গেলে সেটি প্রকারান্তরে গণমাধ্যমের পেশাদারি ও দায়বদ্ধতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি পরিবর্তন তথা গণতান্ত্রিক উত্তরণের দিকে যাত্রার যে প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মতো গণমাধ্যমের জন্যও নিত্য-নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। বিশেষ করে বিগত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলা; ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অসংখ্য সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ নানারকম মবের আতঙ্কে যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছ, সেখানে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থেকে বস্তুনিষ্ঠ তথা নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করা বেশ কঠিন। কিন্তু তারপরও আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই। সবার আগে দেশ—এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে তথা দেশ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ, বিশ্লেষণধর্মী টকশো, তথ্য-বিনোদনমূলক ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট দিতে ‘বিডি আর্কাইভ’ সচেষ্ট রয়েছে।
গত একবছর আমাদের ডিজিটাল কনটেন্ট শুধু ফেসবুকেই প্রায় ৪৬ কোটি বার দেখেছেন। সম্প্রতি ‘বিডি আর্কাইভ’-এর ফন্ট পরিবর্তনসহ আরও কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন আশা করি আপনার নজরে এসেছে। বিশেষ করে মূল পাতায় ‘পলিটিক্স’ নামে একটি নতুন টকশো এবং ‘এডিটর্স আই’ নামে সম্পাদকীয় বিভাগ চালু সেই পরিবর্তনেরই অংশ।

‘বিডি আর্কাইভ’ মোট ৭টি ভাষায় পড়া যায়। গত এক বছরে প্রায় ২১ লক্ষ নতুন পাঠক ও ফলোয়ার যুক্ত হয়েছে। বিপিএল ফিক্সং নিয়ে আমরাই প্রথম সংবাদ প্রকাশ করি যা কিনা পরবর্তীতে দেশের সকল মিডিয়া হয়ে আইসিসি থেকেও যোগাযোগ করা হয় দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের স্বার্থে। আরও অনেক পরিবর্তন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা, ভালোবাসা এবং আস্থা ও বিশ্বাস আমাদের পথচলার অনুপ্রেরণা।
সম্পাদক হিসেবে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই- “বিডি আর্কাইভ” যা কিছু অর্জন করেছে তার প্রশংসা আমার সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রাপ্য। যা কিছু সীমাবদ্ধতা তার দায় সম্পাদক হিসেবে নিজের কাঁধে তুলে নিতে আমার কোনো সঙ্কোচ নেই। অর্জন থেকে অনুপ্রেরণা এবং সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আর এই এগিয়ে চলার পথে আমরা পাশে চাই সবাইকে।
‘বিডি আর্কাইভ’-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পাঠক, দর্শক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। আশা করি আগামী দিনগুলোতেও আমরা আপনাদের পাশে পাব।
শুভেচ্ছান্তে,
সম্পাদক, বিডি আর্কাইভ



