অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকার একটি দলকে কোলে তুলে নিচ্ছে, আরেকটি দলকে কাঁখে রাখছে।
শুক্রবার বিকেল ৪টার পর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত দোয়া ও মৌন মিছিলের অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের’ স্মরণে এই কর্মসূচির আয়োজন করে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা। মৌন মিছিলটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক হয়ে আবুল হোটেলের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, “দয়া করে একটু পক্ষপাতমূলক আচরণটা বন্ধ করুন। দেশের একটি দলকে আপনি কোলে রেখেছেন, আরেকটি দলকে রেখেছেন কাঁখে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা খুব তাড়াতাড়ি একটি নির্বাচন দিন। দিলে দেশের অশান্ত পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়ে যাবে। আর না দিলে আমরা ভাবব, দেশকে অশান্ত করার প্রক্রিয়া আপনারাই করছেন।”
১৯৭৪ সালের ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা আব্বাস দাবি করেন, ওই ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের ৪২২ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছিলেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল সেই ঘটনার রাজনীতি করছে এবং শহীদদের বিক্রি করে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “শহীদরা কোনো একক দলকে সমর্থন করেননি। তারা চেয়েছিলেন একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।” সেই ঐক্যের কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরাও চাই একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ, যাতে বিদেশী হস্তক্ষেপ রোধ করা যায় এবং দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়।”
বিএনপিকে ‘আওয়ামী লীগের কাতারে ফেলার অপচেষ্টা’ চলছে দাবি করে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য পাগল নয়। দলটি ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন করেছে দেশের মানুষের ভোট ও গণতন্ত্রের অধিকার ফিরিয়ে আনতে। বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েস পূরণ হবে না।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।




